শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলন আয়োজিত পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, বাঙালির জাতিসত্তাবোধ বিনষ্ট করা অসম্ভব। বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সেটাই প্রমাণ করে। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। ধর্ম-বর্ণের দোহাই দিয়ে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এই ঐতিহ্য মুছে ফেলার অপচেষ্টা কখনোই সফল হবে না। নববর্ষের উচ্ছ্বাসে সব অশুভ শক্তির পরাজয় হবে।
সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেঙ্গলি মিডিয়াম হাই স্কুলে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতি আন্দোলনের সদস্যসচিব রুস্তম আলী খোকন। ড. তারিকুজ্জামান সুদানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন লেখক-সাংবাদিক সাইফুর রহমান তপন, খেলাঘরের উপদেষ্টা আহসান হাবিব লাভলু, পরিজা সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, শৈশব মেলা বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া অপু এবং শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলনের নেতা সৈয়দ বাবলু, নাজমুল হাসান ও অনন্ত রূপ চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিককালে সারা দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠী বাঙালি সংস্কৃতির ওপর নানাভাবে আঘাত হানছে।পহেলা বৈশাখকে ধর্ম বিরুদ্ধে উপস্থাপন করার পুরনো অপচেষ্টায় এই মৌলবাদী উগ্রবাদী মহল লিপ্ত। কর্তৃক ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা জনগণকে বিস্মিত করছে।
তারা আরো বলেন, বায়ান্নর চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বায়ান্ন ও একাত্তরের চেতনায় মৌলবাদ, দুর্নীতি, দুর্নীতিবাজ, অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী অপশাসনসহ সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।
বর্ষবরণ উপলক্ষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোর সংগঠনসহ শিল্পীরা গান-কবিতা ও বাউলসংগীত পরিবেশন করেন।

