মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুস্ঠানে আলোচনা সভায় বক্তাগণ – বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বাঙালী জাতির জাতিসত্বা বোধের প্রথম স্ফুরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এই আন্দোলনের চেতনা কোন ধরনের উগ্রতা, হঠকারিতা, অসমতা ও অগণতান্ত্রিকতা সমর্থন করে না। বায়ান্নতে ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাঙালীর হাজার বছরের জাতিসত্বাবোধের প্রকাশ ঘটেছে। যা বাঙালী জাতির অসাম্প্রদায়িক, সমতার সমাজ নির্মাণ, গণতান্ত্রিক মুল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খা , নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতির ওপর গভীর আস্হার প্রকাশ ঘটিয়েছে। বায়ান্নর এই চেতনার চুড়ান্ত রূপ একাত্তরের সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রাম। এই মুক্তিসংগ্রামে রক্তক্ষয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাঙালীর নিজস্ব রাস্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই মুক্তি সংগ্রাম একটি ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রাম, গণযুদ্ধ।
জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন মোহাম্মদপুর থানার উদ্যোগে সলিমুল্লাহ রোড মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুস্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা গণসঙ্গীত শিল্পী মাহমুদ সেলিম, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, সংগঠনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন।স্হানীয় নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ হোসেন বাবলু, অনন্ত রূপ চক্রবর্তী। সংগঠনটির মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক ড তারিকুজ্জামান সুদানের সভাপতিত্বে এ সভা সঞ্চালন করেন কমিটির অন্যতম সংগঠক নাজমুল হাসান খান।
বর্তমান প্রেক্ষাপটের নানাদিক বিশ্লেষণ করে সভায় বক্তাগণ বলেন – একটি স্থিতিশীল সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত হচ্ছে স্থিতিশীল বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষাকাঠামো ও নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা এবং তার বিকাশ। দলীয় সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে থেকে রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমুহকে ইতিহাস ঐতিহ্য শিক্ষা সংস্কৃতি ও সামাজিক মুল্যবোধকে মর্যাদা দেয়া প্রয়োজন।
তারুণ্যে জ্বল জ্বল করা বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা কাঠামোতে দক্ষ ও দেশপ্রেমিক জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে ব্যর্থতা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মতন বৈশ্বিক চ্যালেন্জ মোকাবিলায় ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমান শিক্ষাঙ্গনের বিরাজমান অরাজকতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তাগণ বলেন, এই অস্থিতিশীলতা হতে দ্রুত বের না হয়ে আসলে তা হবে দেশ ও জাতির জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ।
জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন একটি নির্দলীয় সংগঠন হিসেবে সকল জনগোষ্ঠীর মিলন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে বলেও বক্তাগণ অভিমত প্রকাশ করে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান প্রফেসর ড মুহাম্মদ ইউনুসের জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রথম ভাষণে “ একটি অসাম্প্রদায়িক বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের” ঘোষণাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বক্তাগণ বলেন – সরকারকে সে লক্ষ্যে কথা ও কাজের মিল রেখে চলতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে চরম অস্থিতিশীলতা, অরাজকতা বাংলাদেশকে আঁকড়ে ধরতে পারে, যা বায়ান্নর চেতনার পরিপন্থী । আলোচনা সভার শুরুতে শিশু কিশোর সংগঠন “পঞ্চভাস্কর “ দেশাত্মবোধক গান এবং কবিতা আবৃত্তি করে। সভা শেষে জাগরণের গান এর শিল্পীবৃন্দ গণসঙ্গীত পরিবেশন করে। বিপুল সংখ্যক জণগণ এ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুস্ঠানে অংশ নেন।

